Description
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনন্ত সৃজনশীল। বিচিত্র তাঁর যাত্রাপথ। ঋষিপ্রতিম এই কবি দীর্ঘ জীবনে বারবার বাসাবদল করেছেন। তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে কি কোনও যোগসূত্র আছে নতুন নতুন ‘উজ্জ্বল সুন্দর ক্ষণখণ্ড’-এর? ইতিহাসের সাক্ষী সেইসব ঘরবাড়ি কি সংরক্ষিত ভবনের মর্যাদা পেয়েছে? সুরঞ্জনা ভট্টাচার্যের দীর্ঘ গবেষণার ফল ‘কবির আবাস’ গ্রন্থে আছে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গে (অধুনা বাংলাদেশে) রবীন্দ্রস্মৃতিধন্য শ’খানেক বাসগৃহ এবং কবির ‘জীবনস্মৃতি’র পাতা থেকে বেছে নেওয়া উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত আরও তিনটি আবাসের কথা। ‘কবির আবাস’ প্রথম খণ্ডে তিনটি পর্ব— জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, পূর্ববঙ্গের জমিদারি এবং শান্তিনিকেতন। রবীন্দ্রপ্রতিভার বিকাশে জোড়াসাঁকোর পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব, শিলাইদহে কবির নিভৃত গৃহজীবন, সাজাদপুরে গল্পরচনার প্রেরণা, পতিসরে পল্লি উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপায়ণ, কুষ্টিয়ায় ব্যাবসাসংক্রান্ত উদ্যোগের কথা বিশেষ আলোচিত৷ ‘পদ্মাবোট’ পরিচ্ছেদে দেখানো হয়েছে নদীবিধৌত বাংলাদেশের নিসর্গ ও পল্লিজীবন কীভাবে প্রভাব ফেলেছে কবির মনোজগতে। আর শান্তিনিকেতন পর্বে আলোচিত হয়েছে বসবাসের আদর্শ পরিবেশ, গৃহস্থাপত্য, গৃহসজ্জা, উদ্যান নিয়ে কবির মৌলিক চিন্তা এবং চিহ্নিত হয়েছে নিত্যনৈমিত্তিকতা থেকে মুক্তির আকাঙক্ষায় তাঁর বাসাবদলের প্রবণতাটি। এই গ্রন্থের আলোয় দেখা যায় মহানগরীর কেন্দ্রে ও উপকণ্ঠে, পদ্মা-গঙ্গা-সবরমতীর পাড়ে, ধানরঙা পল্লিগ্রামে, পাহাড়চূড়ায়, পাইন বনে, চা-বাগানের সীমান্তে, আরবসাগরতীরে ছড়িয়ে আছে কবির কত না আবাস। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য আবাসগুলি নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেছেন সুরঞ্জনা ভট্টাচার্য। অসামান্য ‘কবির আবাস’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে আছে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির কথা, যে বাড়ির সঙ্গে তাঁর জন্ম আর মৃত্যুর বন্ধন। আছে পূর্ববঙ্গের (অধুনা বাংলাদেশের) শিলাইদহ, পদ্মাবোট, সাজাদপুর, পতিসর, কুষ্টিয়ায় বসবাসের বিবরণ এবং শান্তিনিকেতনের নানাবিধ আবাসগৃহের কথা। কত ঘরে কত গৃহে কবি বাস করেছেন, ধ্যানমগ্ন থেকেছেন, মত্ত হয়েছেন বিরামহীন সৃজন-উৎসবে। ‘কবির আবাস’ দ্বিতীয় খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে— পুনর্বার জোড়াসাঁকো, অন্য কোথা অন্য কোন্খানে এবং বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে। কবির জন্ম-মৃত্যুর স্মৃতিবিজড়িত জোড়াসাঁকো নিয়ে মূল্যবান কিছু সংযোজনের পাশাপাশি এই খণ্ডে আছে প্রধানত আত্মীয়-বন্ধুদের বাড়িতে কবির জীবনের নানা সময় অতিবাহিত করার প্রাসঙ্গিক তথ্য। কখনও তিনি বাস করেছেন পানিহাটি, খড়দা, বরানগর, চন্দননগর, চুঁচুড়ার নানা গৃহে; কখনও বাস করেছেন নাটোর, কালিম্পঙ, দার্জিলিঙ, মংপু-র বিবিধ ভবনে। কয়েকটি আবাসের সচিত্র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি সমৃদ্ধ করবে পাঠককে। ‘জীবনস্মৃতি’-তে উল্লেখিত কবির তিনটি সাময়িক বাসস্থান বক্রোটা, শাহিবাগ এবং কারোয়ার-এর ভিতর-বাহিরের ইতিবৃত্ত গ্রন্থটিকে সম্পূর্ণ করেছে। রোমাঞ্চিত হতে হয় এ কথা জানলে যে, সাজাদপুরে ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ গল্পটি লিখলেও সতেরো বছর আগে গুজরাটের শাহিবাগের মোতিশাহি প্রাসাদে রবীন্দ্রনাথ পেয়েছিলেন এই বিখ্যাত গল্পটির কল্পনা। সুরঞ্জনা ভট্টাচার্যের পরিশ্রমী গবেষণার মায়াবী ফসল ‘কবির আবাস’ রবীন্দ্রনাথের ‘এক অন্য জীবনচরিত’।







Reviews
There are no reviews yet.