Description
বিশ শতকের পাঁচের দশকে সাহিত্য অকাদেমি প্রতিষ্ঠার পর্বে ভারতবর্ষের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং বিশিষ্ট চিন্তাবিদ সর্বেপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ মন্তব্য করেছিলেন যে ভারতীয় সাহিত্য নানা ভাষায় লেখা হলেও তা একই। ভারতীয় সাহিত্য পরিমণ্ডলে বারংবার উদ্ধৃত এই বাক্যটির মধ্য দিয়ে ভারতীয় সাহিত্যের অভ্যন্তরীণ সংহতির একটি জরুরি লক্ষণ ধরা পড়ে কিন্তু অন্যদিকে শত শত অলিখিত ভাষার কথনসাহিত্য ভারতীয় সাহিত্যের চৌহদ্দির বাইরে চলে যায়। আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের সঙ্গেও তার প্রায় ভাশুর ভ্রাতৃবধূ সম্পর্ক। অথচ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, প্রকৃতি, ত্রিকাল ও ত্রিলোকের কত জরুরি কথা ভারতজোড়া এই সব কথামালায়! তার কোনো সার্বিক সর্বভারতীয় রূপই তুলে ধরা যায়নি তেমনভাবে। যা কিছু বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ তার অনেকটাই পশ্চিমি যার পনেরো আনার ভেতর কখনো ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গী, কখনো পশ্চিমি ও মার্কিনি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক সংস্কার, কখনো ভারতবর্ষ তথা প্রাচ্য সম্বন্ধে অহেতুক অলীক কল্পনা। তারই ফল সংগৃহীত কথনকথার আদি রূপ ও রীতিতে নানান বিকৃতি। অন্যদিকে পশ্চিমি-মার্কিনি লোকসংস্কৃতির সূত্র ও তত্ত্বের নিরিখে ভারতীয় কথনসাহিত্যকে বোঝার যে আকৃতি তাতে ভারতীয় গাঁ-ঘরের নানান সম্পর্কের বর্ণময় বৈচিত্র ও স্তরবিন্যাস হারিয়ে নানা সুতোর নকশি কাঁথাটি যেন বিলিতি পাইকিরি কম্বল। অথচ ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার যে সব সংকলন লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া, দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার, জাভেরচাঁদ মেঘানী থেকে বর্তমান সময়ের মধুরাম মলু, ভগবানদাস পটেল, দেবব্রত জোশী, তরণীমোহন রূপীনি প্রমুখদের উদ্যোগে তার ভেতর কী নিবিড় আত্মমগ্নতা, কী গভীর নিষ্ঠা, কী শুদ্ধ স্বাদেশিকতা! এই সব সাধুজনের (অসমীয়া ‘লোক’ অর্থে) উপার্জন থেকেই মূলত এই সংগ্রহ, সঙ্গে বাহারটি ভাষার রূপরেখা।


Aditi Sannigrahi –
Good book